প্রকাশিত: Sat, Apr 29, 2023 7:29 AM
আপডেট: Fri, Mar 13, 2026 12:25 AM

চালডাল ডটকমের পঁচা মুরগি কাহিনি

শাওন মাহমুদ : চালডাল ডট কম থেকে খুব কমই বাজার করা হয়েছে। ঈদের তিনদিন আগে হঠাৎ ওদের বিজ্ঞাপন দেখে মনে হলো কিছু জিনিস দরকার ছিলো, ঘরের কাজ সামলে সময় না পেতেও পারি বরং আনিয়েই নেই চালডাল থেকে। তাছাড়া আনাবার মতন লোকও নেই আমাদের ঘরে। তাই টিপুকে জানালাম কী কী লাগবে তার তালিকা। পরের দিন ঘেমে নেয়ে এক তরুণ সব জিনিস নিয়ে হাজির। বিল শোধ করতে গিয়ে তাকে ঈদ বখশিশ দিতে গেলে প্রথম না না করলেও জোর করে দিয়ে দিলাম। পাঁচ কেজি ব্রয়লার মুরগি ছিলো তালিকায়। এর থেকে হুন্দারাকে ঈদ উপহার হিসেবে দুটো দিবো, দেরি না করে ওর মাকে পৌঁছে দিলাম আর আমারগুলো ফ্রিজারে।

পরের দিন হুন্দারার মা এসে জিজ্ঞেস করলো, আপা মুরগি কোথা থেকে আনছেন? আপনার আনা মুরগি তো এমন কখনও হয়নি? আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী সমস্যা বলো তো? সে জানালো যে রাতে সেহরীর জন্য অর্ধেক মুরগি রান্না করবার সময় বাজে গন্ধ বের হয়েছিলো, তারপরও খেতে বসে তারা বুঝতে পারে যে মুরগি একদম পঁচা। পুরো তরকারী ফেলে দিয়েছে। দৌড়ে ফ্রিজ থেকে অন্য মুরগিগুলো বের করে ভিজানোর পর প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলো। সব মুরগিই ছিলো পঁচা। 

আমার মাথা খারাপ হবার মতন অবস্থা। টিপুকে জানালাম। সে ফোন দিলো চালডাল ডটকমের হেল্প লাইনে। জানানোর পর তারা বললো যে, কাঁচামাল হলে সেদিনই সমস্যার কথা জানাতে হয়। একদিন পার হয়ে গেছে তাদের কিছু করার নেই। অথচ রোজা রাখলে যে দুপুরে কোনো খাবার খাওয়া হয় না, তার কোনো উত্তর নেই ওনাদের কাছে। হুন্দারার মাকে বললাম সব ফেলে দাও, কারণ অন্য কাউকে দিলে পেট খারাপ হয়ে মরে যাবে। ঠিক ঈদের আগের দিন আমরা পাঁচকেজি মুরগি ফেলে দিলাম। জীবনেও এমন অপচয় কখনও করিনি আমি। আগামীতে চালডাল ডটকম ব্যবসা চালিয়ে যাবে ঠিক। তবে আমার মতন ভুক্তভোগীরা নিশ্চয় আর কখনও তাদের বিশ্বাস করে কিছু কিনবে না। কষ্টের টাকা এভাবে নষ্ট হলে মন খারাপ করা ছাড়া আর কিবা করার আছে আমাদের হুম। ফেসবুক থেকে